বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে যমুনা/পদ্মা নদীর উপর সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার চুক্তি স্বাক্ষর

আজ বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সম্মেলন কক্ষে “Consultancy Services for Feasibility Study for Construction of 2nd Jamuna & 2nd Padma Bridge over the River Jamuna & Padma” শীর্ষক পরামর্শক সেবা চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক জনাব মোহাম্মদ আবদুর রউফ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক জনাব মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, দেশের যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন, আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন মেগা অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এরই ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় যমুনা ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার চুক্তি স্বাক্ষর দেশের সেতু অবকাঠামো উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
তিনি আরও বলেন, দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার বহুমুখীকরণ, নিরবচ্ছিন্ন আঞ্চলিক সংযোগ নিশ্চিতকরণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত করতে সমীক্ষার মাধ্যমে প্রাপ্ত সঠিক ও অনুমোদিত স্থানে সেতু নির্মাণ একটি দূরদর্শী উদ্যোগ। প্রস্তাবিত সেতু নির্মাণের মাধ্যমে দেশের উত্তর, দক্ষিণ-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ ও কার্যকর হবে এবং বিদ্যমান সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি পণ্য ও যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থায় নতুন গতি সঞ্চার হবে।
চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পক্ষে প্রধান প্রকৌশলী জনাব মো. আবুল হোসেন এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে SARM Associates Limited-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অথরাইজড সিগনেটরি প্রকৌশলী মিয়া মোহাম্মদ কাইয়ুম নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
উক্ত পরামর্শক সেবার সঙ্গে যৌথভাবে সম্পৃক্ত রয়েছে Environment and Resource Management Consultant (P.) Ltd. (ERMC), Nepal; Swedish National Road Consulting AB (SWEROAD), Sweden; Dasan Consultants Co. Ltd. (Dasan), Republic of Korea; Desh Upodesh Limited (DUL), Bangladesh এবং SARM Associates Limited (SARM), Bangladesh।
এই সম্ভাব্যতা সমীক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো
বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ চাহিদা পূরণে টেকসই, নিরাপদ ও অর্থনৈতিকভাবে সুফলদায়ক সেতু নির্মাণের জন্য উপযুক্ত অ্যালাইনমেন্ট, কারিগরি ও কাঠামোগত বিকল্প স্থান চিহ্নিতকরণ এবং সর্বোত্তম বিকল্পের বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়ন। সমীক্ষার আওতায় প্রয়োজনীয় কারিগরি, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত, সামাজিক ও আর্থিক বিষয়াদি পর্যালোচনা করে প্রকল্প বাস্তবায়নের উপযোগিতা যাচাই করা হবে।
উক্ত সম্ভাব্যতা সমীক্ষার মোট মেয়াদ ১২ (বারো) মাস হলেও সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মহোদয় আগামী ৮/৯ মাসের মধ্যে গুণগত মান বজায় রেখে সমীক্ষা সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ জানান।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সেতু বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।